মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান (SSC Biology)


দ্বাদশ অধ্যায় : জীবের বংশগতি ও বিবর্তন


প্রধান শব্দভিত্তিক সারসংক্ষেপ


♦ বংশগতি: পিতামাতার বৈশিষ্ট্যগুলো বংশানুক্রমে সন্তান-সন্ততির দেহে সঞ্চারিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বংশগতি বলে।

♦ বংশগতি বিদ্যা: জীববিজ্ঞানের যে বিশেষ শাখায় বংশগতি সম্বন্ধে বিশদ আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তাই বংশগতিবিদ্যা।

♦ বংশগতি বিদ্যার জনক: বংশগতি বিদ্যার জনক হলেন বিজ্ঞানী গ্রেগর জোহান মেন্ডেল।

♦ অটোজোম: মানব দেহকোষের যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোম শরীরবৃত্তীয়, ভ্রুণ ও দেহ গঠন ইত্যাদি কার্যাদিতে অংশগ্রহণ করে তারাই হলো অটোজোম।

♦ সেক্স ক্রোমোসোম: মানব দেহকোষের যে ১ জোড়া ক্রোমোসোম (X ও Y) লিঙ্গ র্নিধারণ করে তাকে সেক্স ক্রোমোসোম বলে।

♦ Y ক্রোমোসোম: Y ক্রোমোসোম অন্য ক্রোমোসোম থেকে ভিন্ন। কারণ, Y ক্রোমোসোম শুধুমাত্র পুরুষের দেহেই উপস্থিত থাকে। সন্তানের লিঙ্গ ছেলে হবে না মেয়ে হবে তা এই Y ক্রোমোসোমের উপস্থিতি অনুপস্থিতির ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়।

♦ জিন: জীবের সব অদৃশ্য ও দৃশ্যমান লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী এককই হলো জিন।

♦ FACTOR: DNA অণুর একটি খণ্ডাংশ যা জীবের বংশগতির মৌলিক, ভৌত ও কার্যিক একক তাই ফ্যাক্টর (FACTOR)।

♦ প্রকট জিন: হেটেরোজাইগাস জীবের দেহে যে বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় তাকে বলা হয় প্রকট বৈশিষ্ট্য। এই প্রকট বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্য যে জিন দায়ী তাকে প্রকট জিন বলা হয়।

♦ প্রচ্ছন্ন জিন: হেটেরোজাইগাস জীবের দেহে যে বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় না তাকে বলা হয় প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য। এই প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্য যে জিন দায়ী তাকে প্রচ্ছন্ন জিন বলা হয়।

♦ লোকাস (Locus): ক্রোমোসোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে সেই স্থানই হলো লোকাস। অ্যালিল: একই বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী দুটি জিনের একটিকে অপরটির অ্যালিল বলে।

♦ DNA: DNA হলো দ্বিসূত্রবিশিষ্ট পলিনিউক্লিওটাইডের সর্পিলাকার গঠন। যা ক্রোমোসোমের প্রধান উপাদান। DNA এর পূর্ণরূপ হলো- Deoxyribo Nucleic Acid । জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকৃত ধারক ও বাহক হলো DNA ।

♦ RNA: অধিকাংশ RNA তে একটি পলিলিউক্লিওটাইডের সূত্র থাকে। এটি পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা, অজৈব ফসফেট এবং নাইট্রোজেন বেস অ্যাডিনিন, ইউরাসিল, গুয়ানিন এবং সাইটোসিন সমন্বয়ে গঠিত।

♦ DNA ও RNA: DNA হলো ডি অক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড এবং RNA হলো রাইবোনিউক্লিক এসিড। এদের মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো- DNA দুটি পলিনিউক্লিওটাইড শৃঙ্খলবিশিষ্ট কিন্তু RNA একটি পলিনিউক্লিওটাইড শৃঙ্খলবিশিষ্ট। DNA-তে পাইরিমিডিন বেস সাইটোসিন ও থাইমিন থাকলেও RNA -তে পাইরিমিডিন বেস সাইটোসিন ও ইউরাসিল থাকে।

♦ DNA টেস্ট: বিভিন্ন জৈবিক নমুনা থেকে DNA সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ পূর্বক বিশেষ কোনো কাজে ব্যবহারের বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিই হলো DNA টেস্ট।

♦ DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং: DNA টেস্টের বিজ্ঞানভিত্তিক এক ব্যবহারিক পদ্ধতিই হলো DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং।

♦ DNA অনুলিপন বা রেপ্লিকেশন: যে প্রক্রিয়ায় একটি DNA অণু থেকে অনুরূপ দুটি DNA অণুর সৃষ্টি হয় তাকে DNA অনুলিপন বলে।

♦ অর্ধ-রক্ষণশীল অনুলিপন: DNA অনুলিপন পদ্ধতিতে মাতৃ DNA সূত্র দুটির হাইড্রোজেন বন্ধন ভেঙ্গে গিয়ে আলাদা হয় এবং প্রতিটি সূত্র তার পরিপূরক নতুন সূত্র সৃষ্টি করে। ফলে একটি পুরাতন সূত্র ও একটি নতুন সূত্র সংযুক্ত হয়ে দুটি অপত্য DNA অনুর সৃষ্টি হয়। নতুন সৃষ্ট DNA অনু একটি পুরাতন মাতৃ সূত্রক এবং একটি নতুন সৃষ্ট সূত্রকের সমন্বয়ে গঠিত বলে DNA অনুলিপনকে অর্ধ-রক্ষনশীল বলা হয়। অ

♦ থ্যালাসেমিয়া: থ্যালাসেমিয়া হলো লোহিত রক্তকণিকার এক অস্বাভাবিক অবস্থাজনিত রোগ, যেখানে লোহিত রক্তকণিকাগুলো নষ্ট হয়ে রক্ত শূন্যতার সৃষ্টি হয়। এই রোগ মানুষের লোহিত রক্তকোষে অবস্থিত দুটি প্রোটিনের জিন আলফা-গ্লোবিউলিন এবং বিটা-গ্লোবিউলিন নষ্টের কারণে হয়। আলফা-গ্লোবিউলিনের অভাবে আলফা-থ্যালাসেমিয়া এবং বিটা-গ্লোবিউলিন জিনের অভাবে বিটা-থ্যালাসেমিয়া হয়।

♦ অ্যান্টিবায়োসিস: একটি জীব কর্তৃক সৃষ্ট জৈব রাসায়নিক পদার্থের কারণে যদি অন্য জীবের বৃদ্ধি ও বিকাশ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে বাধাপ্রাপ্ত হয় অথবা মৃত্যু ঘটে তখন সেই প্রক্রিয়াটিকে এ্যান্টিবায়োসিস বলে।

♦ কালার ব্লাইন্ড: কালার ব্লাইন্ড হলো এমন এক অবস্থা যখন কেউ কোনো রং সঠিকভাবে চিনতে পারে না। রং চিনতে আমাদের চোখের স্নায়ুকোষে রং সনাক্তকারী পিগমেন্ট থাকে। কালার ব্লাইন্ড হলে চোখের স্নায়ুকোষে এই পিগমেন্টের অভাব থাকে। ফলে রোগী লাল এবং সবুজ রং এর পার্থক্য করতে পারে না।

♦ ডারউইনের লেখা বইটির নাম: চার্লস রবার্ট ডারউইনের লেখা বইটির নাম 'The Origin of Species by Means of Natural Selection' ।

♦ অভিযোজন: পৃথিবীতে বর্তমানে যত জীব রয়েছে তাদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে এ ভূমণ্ডলে আবির্ভূত হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে পরিবেশেরও পরিবর্তন ঘটেছে। আর এই ভিন্ন পরিবেশে জীবগুলো তাদের বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন ঘটিয়ে টিকে আছে। বিভিন্ন পরিবেশে বা প্রতিকূল পরিবেশে জীবের নিজেকে খাপ খাইয়ে বেঁচে থাকাই হলো অভিযোজন। অভিযোজন জীবের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য।

♦ বিবর্তন: জীবের যে পরিবর্তন দ্বারা জটিল ও উন্নততর নতুন প্রজাতি বা জীবের উদ্ভব ঘটে তাই হলো বিবর্তন। জৈব বিবর্তন বা অর্গানিক ইভোলিউশন : কয়েক হাজার বছর সময়ের ব্যাপকতায় জীব প্রজাতির পৃথিবীতে আবির্ভাব ও টিকে থাকার জন্য পরিবর্তন ও অভিযোজন প্রক্রিয়াই জৈব বিবর্তন।

♦ বিবর্তনের গুরুত্ব : বিবর্তনের মাধ্যমে নতুন প্রজাতির উদ্ভবকালে অনেক প্রজাতি কালের গর্ভে হারিয়ে যায়। যেমনটি ঘটেছে ডাইনোসরের ক্ষেত্রে। যে প্রজাতি সময়ের সাথে ঘটা পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে নিজেকে অভিযোজিত বা খাপ খাইয়ে নিতে পারে পরিবেশ তার টিকে থাকার ক্ষমতা তত বেশী। কারণ পরিবর্তিত পরিবেশে জীব তার নিজের যে পরিবর্তন ঘটিয়ে টিকে থাকে তাকেই বিবর্তন বলে। এ কারণেই প্রজাতির টিকে থাকায় বিবর্তনের গুরুত্ব অপরিসীম।