জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র

(একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)

সপ্তম অধ্যায় :নগ্নবীজি ও আবৃতবীজি উদ্ভিদ



নগ্নবীজী উদ্ভিদ:
বীজ উৎপাদনকারী উদ্ভিদকে স্পারমাটোফাইটা (Spermatophyta) বলা হয়। এরা উদ্ভিদ জগতের উপজগত ফ্যানেরোগ্যামিয়ার (Phanerogamia) অর্ন্তভুক্ত। Phanerogamia শব্দের প্রকৃত অর্থ-দৃশ্যমান জনন অঙ্গধারী উদ্ভিদ। বর্তমান পৃথিবীতে স্পারমাটোফাইটা উদ্ভিদের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি। সংখ্যার দিক থেকে এরা প্রাণীক‚লের চেয়েও অধিক বলে ধারণা করা হয়। এ সব উদ্ভিদ পৃথিবীর সর্বত্র বিস্তৃত। গঠনের দিক থেকে এরা অত্যন্ত জটিল ও উন্নত। স্পারমাটোফাইটা উদ্ভিদের জীবন চক্রের প্রধান অংশ স্পোরোফাইট। উদ্ভিদের স্পোরোফাইটিক অংশ দীর্ঘস্থায়ী এবং গ্যামিটোফাইট অতি সংক্ষিপ্ত। বীজ উৎপাদন পদ্ধতির উপর নির্ভর করে স্পারমাটোফাইটাকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়। যথা- (ক) নগ্নবীজী এবং (খ) আবৃতবীজী উদ্ভিদ। যে সব উদ্ভিদের বীজ সরাসরি উদ্ভিদের অক্ষে জন্মে এবং কোন ফল উৎপন্ন হয় না, এদেরকে জিমনোস্পার্মি (Gymnospermeae) বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলা হয়। এদের গর্ভাশয় থাকে না তাই ফল হয় না। বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু বৃক্ষ (Sequoia gigantea) এ গোষ্ঠীর অর্ন্তভুক্ত। উল্লেখযোগ্য নগ্নবীজী উদ্ভিদ হলো Cycas, Pinus, Gnetum ইত্যাদি।

নগ্নবীজী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য
১। উদ্ভিদ স্পোরোফাইটিক, মূল, কান্ড ও পাতায় বিভক্ত এবং হেটারোস্পোরাস বা অসমরেণুপ্রসু, চির সবুজ। দু’ প্রকার স্পোর তৈরি করে। যথা- মাইক্রোস্পোর ও মেগাস্পোর।
২। নগ্নবীজী উদ্ভিদের পাতাগুলো দু’প্রকারের হয়। যথা- বাদামি বর্ণের আঁইশাকার শল্কপত্র এবং সবুজ বর্ণের পর্ণপত্র। পর্ণপত্রগুলো চির সবুজ ও পুরু কিউটিকলযুক্ত।
৩। স্পোরোফিল বা রেণুপত্র সজ্জিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। (ব্যতিক্রম, Cycas উদ্ভিদে স্ত্রী স্ট্রোবিলাস গঠিত হয় না)।
৪। অ্যানজিওস্পার্মি উদ্ভিদের ন্যায় গর্ভপত্রটি গর্ভাশয়, গর্ভদন্ড ও গর্ভমুন্ডে বিভেদিত নয়।
৫। গর্ভাশয় না থাকায় ডিম্বক মেগাস্পোরোফিলে ব্যক্ত বা উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে। নিষেকের পর সৃষ্ট বীজ ব্যক্ত বা উন্মুক্ত থাকে।
৬। গর্ভাশয় না থাকায় ফল হয় না।
৭। দ্বিনিষেক সংঘটিত হয় না। সস্য (Endosperm) নিষেকের পূর্বে সৃষ্টি হয় এবং হ্যাপ্লয়েড থাকে।
৮। জাইলেম টিস্যুতে ভেসেল নাই (ব্যতিক্রম, Gnetum) এবং ফ্লোয়েম টিস্যুতে সঙ্গীকোষ নাই।
৯। জীবন চক্রে অসম আকৃতির জনুক্রম বিদ্যমান।
১০। সব নগ্নবীজী উদ্ভিদ স্থলজ ও মরুজ। বেশির ভাগ উদ্ভিদ দীর্ঘ, কাষ্ঠল ও বহুবর্ষজীবী।

আবৃতবীজী উদ্ভিদ:
যে সকল উদ্ভিদের ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় এবং ফলের বীজ নির্দিষ্ট আবরণ দিয়ে আবৃত অবস্থায় থাকে তাকে আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperm) বলে। আজ থেকে প্রায় ১২০ মিলিয়ন বছর পূর্বে Cretaceous যুগের প্রথম দিকে আবৃতবীজী উদ্ভিদের উদ্ভব হয়েছিল বলে ধরে নেয়া হয়। Cretaceous যুগের শেষের দিকেই (আজ থেকে ৮০ মিলিয়ন বছর পূর্বে) পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চলে আবৃতবীজী উদ্ভিদ প্রাধান্য বিস্তার লাভ করে ফেলে। বর্তমানে আবৃতবীজী উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষ ধারণা করা হয়। এরা পানিতে, সিক্ত মাটিতে, মরুভূমিতে, পাথুরে পাহাড়ি অঞ্চলে, এমনকি পরাশ্রয়ী ও পরভোজী হিসেবে অন্য উদ্ভিদের উপর জন্মায়।

আবৃতবীজী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য
১। এরা পুষ্পক উদ্ভিদ অর্থাৎ এদের ফুল হয়।
২। ফুলের গর্ভাশয় থেকে ফল উৎপন্ন হয়।
৩। বীজ আবৃত অবস্থায় অর্থাৎ ফলের ভেতরে থাকে।
৪। এদের কোন অবস্থায়ই আর্কিগোনিয়া সৃষ্টি হয় না।
৫। এদের দ্বিনিষেক ঘটে।
৬। এদের এন্ডোস্পার্ম (বীজের শাঁস) ট্রিপ্লয়েড, নিষেকের পর তৈরি হয়।
৭। এদের জাইলেম টিস্যুতে ভেসেল থাকে।
৮। এদের ফ্লোয়েম টিস্যুতে সঙ্গীকোষ থাকে।

Cycas


Cycas বহুবর্ষজীবী ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ। পৃথিবীর উষ্ণ ও উষ্ণ মন্ডলীয় অঞ্চলে এর বিস্তার লক্ষ করা যায়। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া এদের বিস্তারের জন্য ভাল। অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান, মাদাগাস্কার, ভারত এবং বাংলাদেশে Cycas উদ্ভিদ জন্মে। বাংলাদেশের চট্টগ্রামের পাহাড়ী অঞ্চলে Cycas pectinata স্বাভাবিকভাবে জন্মায়। Cycas revoluta ও Cycas circinalis বাগানে শোভাবর্ধক উদ্ভিদরূপে লাগানো হয়।

Cycas এর শ্রেণিবিন্যাস
বিভাগ- Gymnospermia,
শ্রেণী - Cycadophyta,
বর্গ- Cycadales,
গোত্র- Cycadaceae

গঠন:
Cycas এর দেহ স্পোরোফাইট। স্পোরোফাইট মূল, কান্ড ও পাতায় বিভেদিত। কান্ড অশাখ (Caudex), খাড়া, বেলনাকার (Cylindrical), কাষ্ঠল, অনেকটা খেজুর গাছের ন্যায়। কান্ড পত্রমূল দিয়ে আচ্ছাদিত এবং অমসৃণ। পাতা কান্ডের অগ্রভাগে মুকুটের ন্যায় অবস্থান করে। প্রতিটি পাতা পক্ষল ও যৌগ। কান্ডের মাথায় যৌগপত্রগুলো সর্পিলাকারে সজ্জিত থাকে। কচি পাতা ফার্ণের মত কুন্ডলিত মুকুল পত্রবিন্যাসযুক্ত (Circinate vernation)। কচি পাতার গায়ে বাদামী বর্ণের শল্কপত্র দেখা যায়। পত্রখন্ড চর্মবৎ ও সবুজ বর্ণের। পত্রখন্ডে একটি মাত্র মধ্যশিরা থাকে, কোন প্রকার শিরা বা উপ-শিরা স্পষ্ট নয়। Cycas এর প্রধান মূল থাকে। প্রধান মূল থেকে ছোট ছোট শাখামূল বের হয়। এগুলো মাটির কাছাকাছি এসে দ্ব্যাগ্র শাখান্বিত ও ঘন সনিড়ববিষ্ট হয়। এদরকে কোরালয়েড মূল (Coralloid root) বলে। প্রকৃতপক্ষে শাখামূল Nostoc নামের নীলাভ সবুজ শৈবাল অথবা ব্যাকটেরিয়া দিয়ে আক্রান্ত হয়ে কোরাল বা প্রবাল আকার ধারণ করে বলে কোরালয়েড মূল বলা হয়।

জীবন্ত জীবাশ্ম:
বর্তমান কালের কোন জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোন জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

Cycas কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ:
এটি Cycadales বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ। প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে Cycadales বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপি বিস্তৃত ছিল। এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত। এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে। এ বর্গের Cycas সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে। এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদি কালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম ইকাড্স এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির। এজন্যই Cycas সহ বর্তমানকালের সকল সাইকাড্সকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। Cycadales বর্গের সদস্যদেরকে সাইকাড্স বলে।

Cycas এর শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য
১। উদ্ভিদ খাড়া পাম জাতীয়, বীজ উৎপন্ন হয় কিন্তু ফল উৎপন্ন হয় না।
২। পাতা বৃহৎ, পক্ষল যৌগিক, কান্ডের মাথার দিকে সর্পিলাকারে সজ্জিত।
৩। কচি পাতার ভার্নেশন সারসিনেট (কুন্ডলিত)।
৪। কোরালয়েড গৌণ মূল থাকে।
৫। পুংরেণুপত্র স্ট্রোবিলাস তৈরি করে কিন্তু স্ত্রীরেণুপত্র স্ট্রোবিলাস তৈরি করে না।


Poaceae গোত্র


বিস্তার: প্রায় ৫০০ গণ এবং ৮০০০ প্রজাতি নিয়ে ঘাস গোত্র গঠিত। এ গোত্রের উদ্ভিদ পৃথিবীর সব ধরনের অবস্থানে পাওয়া গেলেও অধিক পাওয়া যায় উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলে এবং উত্তর নাতিশীতোষ্ণ মৃদু শুষ্ক অঞ্চলে। বাংলাদেশে এ গোত্রের ১১৩টি গণ এবং ২৮৫টি প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। Poaceae গোত্রের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে বাঁশ, ধান, আখ, ভুট্টা, গম, যব, লেমন ঘাস, নলখাগড়া, ঝাড়–ঘাস, দূর্বাঘাস ইত্যাদি।

স্বরূপ: বর্ষজীবী বা বহুবর্ষজীবী বীরুৎ, কতক বৃক্ষবৎ, যেমন বাঁশ।
মূল: গুচ্ছ মূল।
কাণ্ড: নলাকার, অধিকাংশ গণে মধ্যপর্ব ফাঁপা (এ ধরনের কান্ডকে সাধারণত Culm বলা হয়)। আখ এবং ভূট্টা গনদ্বয়ে কান্ড তেমন ফাঁপা থাকে না।
পাতা: সরল, একান্তর, লিগিউলবিশিষ্ট।
পুষ্পবিন্যাস: স্পাইকলেট।
পুষ্প: ঘাস গোত্রের পুষ্পকে সাধারণত পুষ্পিকা বলা হয়। এরা উভলিঙ্গ বা একলিঙ্গ হতে পারে। ভিন্নবাসী বা সহবাসী হতে পারে।
পুষ্পপুট: সকল পুষ্পিকাতে পুষ্পপুট নেই। কোন কোন উদ্ভিদের পুষ্পিকাতে ক্ষুদ্রাকায় পুষ্পপুট থাকে যাকে লোডিকিউল বলে। ক্ষুদ্র শল্কপত্রের ন্যায় পুষ্পপুট হলো লোডিকিউল (Lodicule)।
পুংস্তবক: পুংকেশর সাধারণত ৩টি, ধান ও বাঁশ উদ্ভিদের পুষ্পে ৬টি পুংকেশর দুই আবর্তে অবস্থিত। পরাগধানী রেখাকার, সর্বমুখ, লম্বালম্বি বিদীর্ণ হয়।
স্ত্রীস্তবক: গর্ভপত্র ১টি, গর্ভাশয় ১টি, গর্ভদন্ড ১টি, গর্ভমুন্ড ২টি, পালকের ন্যায় এবং পার্শ্বীয়, গর্ভাশয় এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট, প্রকোষ্ঠে ডিম্বক ১টি, ডিম্বক খাড়া এবং মূলজ।
অমরাবিন্যাস: মূলীয়।
ফল: ক্যারিওপসিস।
বীজ: সস্যল।
পুষ্প সংকেত: মপ. উমপ. পুং২পু(৩+৩)গ১

Poaceae গোত্রের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য
১। কান্ড সাধারণত নলাকার, মধ্যপর্ব ফাঁপা।
২। পাতা লিগিউলবিশিষ্ট।
৩। পুষ্পবিন্যাস স্পাইকলেট।
৪। পরাগধানী সর্বমুখ।
৫। গর্ভমুন্ড পালকের ন্যায়।
৬। ফল ক্যারিওপসিস।


মালভেসি (Malvaceae) গোত্র


বিস্তার: মালভেসি (Malvaceae) একটি বৃহৎ গোত্র। প্রায় ৮২টি গণ ও ১৫০০ প্রজাতির সমন্বয়ে এ গোত্র গঠিত। পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র এর বিস্তৃতি। মালভেসি গোত্রের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে জবা, ঢেড়স, কার্পাস তুলা, কেনাফ, মেস্তা পাট ইত্যাদি।
স্বরূপ: বীরুৎ, গুল্ম বা বৃক্ষ। উদ্ভিদ মিউসিলেজ বা পিচ্ছিল পদার্থ যুক্ত।
মূল: প্রধান মূলতন্ত্র।
কান্ড: নরম, শক্ত বা কাষ্ঠল, শাখান্বিত।
পাতা: সরল, বড়, চওড়া, জালিকা শিরাবিন্যাসযুক্ত, সবৃন্তক, উপ-পত্র যুক্ত। উপ-পত্র মুক্ত পার্শ্বীয়, কিনারা অখন্ডিত বা খন্ডিত।
পুষ্প বিন্যাস: একক (সাইমোস)।
পুষ্প: একক, সম্পূর্ণ, সমাঙ্গ, উভলিঙ্গ, অধিগর্ভ বা গর্ভপাদপুষ্পী।
উপবৃতি: উপ-বৃত্যংশ ৩-১০টি, মুক্ত বা যুক্ত (Sida ও Abutilon) গণে উপ-বৃতি নাই)।
বৃতি: বৃত্যংশ ৫টি যুক্ত বা মুক্ত, ভালভেট বা প্রান্তস্পর্শী।
দল: পাপড়ি ৫টি, মুক্ত বা পুংকেশরীয় নলের সাথে গোড়ায় যুক্ত, টুইষ্টেড বা পাকানো, মিউসিলেজ বা পিচ্ছিল পদার্থযুক্ত।
পুংস্তবক: পুংকেশর অসংখ্য, একগুচ্ছক, পুংদন্ড সংযুক্ত হয়ে একটি নলের সৃষ্টি করে, দললগ্ন, পরাগধানী এক প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট, বৃক্কাকার (kidney shaped), রেণু বৃহৎ, কণ্টকিত।
স্ত্রীস্তবক: গর্ভপত্র ১-২০ এর বেশি, সাধারণত ৫-১০টি, যুক্ত, গর্ভাশয় অধিগর্ভ, ১-বহু প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট, সাধারণত ৫ প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট, অমরাবিন্যাস অক্ষীয়, গর্ভদন্ড গর্ভপত্রের সমান সংখ্যক, গর্ভমুন্ড গর্ভদন্ডের সংখ্যার সমান অথবা দ্বিগুণ।
ফল: ক্যাপসুল, বেরি অথবা সাইজোকার্প।
বীজ: সাধারণত সস্যল, সস্য তেলযুক্ত।

Malvaceae (মালভেসি) গোত্রের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য
১। উদ্ভিদ মিউসিলেজ যুক্ত।
২। উপপত্র মুক্ত পার্শ্বীয়।
৩। পুষ্প সাধারণত উপ-বৃতিযুক্ত ও মিউসিলেজ যুক্ত।
৪। পুংকেশর অনেক, একগুচ্ছক, পুংদন্ড একত্রে যুক্ত হয়ে পুংকেশরীয় নালিকা তৈরি করে।
৫। গর্ভাশয় ও গর্ভদন্ড পুংকেশরীয় নালিকা দিয়ে বেষ্টিত।
৬। পরাগধানী বৃক্কাকার ও এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।
৭। পরাগরেণু বৃহৎ ও কণ্টকিত।

পরীক্ষার নাম: Malvaceae গোত্র পর্যবেক্ষণ।

উপকরণ: একটি ডালসহ জবা ফুল, ব্লেড, নিডল, চিমটা ইত্যাদি।

কার্যপদ্ধতি: একটি জবা ফুল নিয়ে তার বিভিন্ন অংশ সূ²ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এরপর সাবধানে ব্লেড দিয়ে ফুলটির লম্বচ্ছেদ করে অমরাবিন্যাস শনাক্ত করতে হবে।

পর্যবেক্ষণ: পর্যবেক্ষণে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো দেখা যাবে-
১। উদ্ভিদের কচি অংশ পিচ্ছিল মিউসিলেজযুক্ত।
২। পুংকেশর অসংখ্য, একগুচ্ছ এবং পুংদন্ডগুলো মিলিত হয়ে একটি ফাঁপা পুংকেশরীয় নালিকা সৃষ্টি করে।
৩। মুক্তপার্শ্বীয় উপ-পত্র বিদ্যমান।
৪। উপবৃতি বিদ্যমান।
৫। দলমন্ডল পাকানো।
৬। পরাগধানী একপ্রকোষ্ঠবিশিষ্ট এবং বৃক্কাকার।
৭। পরাগরেণু বড় ও কণ্টকিত।
৮। অমরাবিন্যাস অক্ষীয়।




প্রধান শব্দভিত্তিক সারসংক্ষেপ

♦ কোষ : কোষ হলো জীবদেহের গঠন ও কাজের একক, যা স্বনির্ভর ও আত্মপ্রজননশীল, বৈষম্যভেদ্য পর্দা দিয়ে পরিবেষ্টিত অবস্থায় নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রোটোপ্লাজম নিয়ে গঠিত এবং পূর্বতন কোষ থেকে সৃষ্ট।